পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৩০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ওয়ালটনের কর-পরবর্তী নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকায়, আগের হিসাব বছরে যা ছির ৩৪০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৫ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১১ টাকা ২৪ পয়সা।
চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ওয়ালটনের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ১৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৪ টাকা ৫৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ টাকা ৪৭ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিক্রির বিপরীতে কোম্পানির নিট মুনাফা মার্জিন গত বছরের একই সময়ের ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ হয়েছে এবং কোম্পানির পরিচালনা মুনাফা মার্জিনও গত বছরের একই সময়ের ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে।
কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনা-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বাণিজ্য অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চমূল্যস্ফীতি ইত্যাদি কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল হয়ে পড়ে। অধিকন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশী মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে কাঁচামালের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সেই সঙ্গে উচ্চমূল্যস্ফীতি হারের প্রভাব পড়েছে কোম্পানির পরিচালন ব্যয়ের ওপর। এছাড়া ফাইন্যান্স অ্যাক্ট ২০২৪-এর আওতায় রেফ্রিজারেটর সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট ৫ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করার পাশাপাশি এয়ারকন্ডিশনারের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এজন্য কোম্পানির মুনাফা কমেছে।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩৫০ শতাংশ নগদ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের জন্য ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৪ টাকা ৭৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৫ টাকা ৮৪ পয়সা।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ। উদ্যোক্তা পরিচালকদের জন্য ৯০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা রয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৫ টাকা ৮৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪০ টাকা ১৬ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৪৩ টাকা ৭৩ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত), পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া যা ২৪২ টাকা ১৮ পয়সা।
২০২১-২২ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালকদের ১৫০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ। ২০২০-২১ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালকদের ১৭০ শতাংশ নগদ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২০০ শতাংশ নগদ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছিল।